বাল্য বিবাহ নিয়ে বিভ্রান্তি…

মগজ ধোলাই কার্যক্রম কতখানি কার্যকরি হতে পারে তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বাল্যবিবাহ নিয়ে আমাদের সমাজে চলমান উপলোব্ধিগত অবস্থান । বর্তমান জামানার মুসলমানেরা বাল্য বিবাহকে শুধু অপছন্দই নয় বরং রীতিমতো ঘৃনা করতে শুরু করেছে। অথচ পবিত্র কোরআন শরিফ, হাদিস শরিফ এবং প্রকৃতির অবস্থান এর সম্পুর্ণ বিপরিত। মহান আল্লাহ পাক উনার দুনিয়াতে সকল প্রজাতির জীবন চক্র সচল রাখতে বয়সের বিশেষ এক সময়ে প্রজনন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করার জন্য আগ্রহ এবং শারীরিক সামর্থ দান করেন এবং একটি সময়ে সেই ক্ষমতা আবার রহিত করেন। এটাই প্রকৃতির নিয়ম, গাছের পাখি, বনের পশু, পানির মাছ এমন কি মাটির নিচের এবং উপরে যত প্রকার কিট পতঙ্গ আছে সকলের জীবন চক্র সচল রাখার জন্য সৃষ্টি কর্তার একই আইন । জীবন চক্রের নিয়ম অনুযায়ী নতুনদের আগমন হবে আর পুরাতনরা জমিন থেকে বিদায় নিবে, মহান আল্লাহ পাকের এই জীবন চক্রের কোথাও কোন ভূল নেই, নেই কোন তারতম্য। সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে শয়তানের মানবীয় প্রতিনিধি ইহুদী চক্র। তারা প্রথমে মগজ ধৌলাইএর মাধ্যমে খ্রিষ্টানদের বুঝিয়েছে যে, প্রজনন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে মানুষের আগ্রহ ৯ থেকে ১২ বৎসরের মধ্যে হলেও মানব জাতি প্রজনন কর্মকান্ডে ১৮ থেকে ২১ বৎসরে আগে যেতে শারীরিক ভাবে সক্ষম হয়না।

Picture from archive post.

তারা বিভিন্ন ধরনের এবং দীর্ঘমেয়াদী মগজধোলাইএর মাধ্যমে মানবজাতিকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানব জাতি প্রজনন এর ক্ষেত্রে একটা বড় ধরনের দূর্বলতা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে। আমরা মুখে বলছি, মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব তবে নিজের অজান্তে বিশ্বাস করি প্রজনন কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে আমরা পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জীব। পৃথিবীর কোন প্রাণীর ক্ষেত্রে তাদের জীবনচক্র সচল রাখতে যৌন শিক্ষার প্রয়োজন হয় না ফলে তারা অনন্তকাল ধরে বিনা শিক্ষাতেই তাদের জীবনচক্র সচল রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও সচল রাখতে থাকবে, সমস্যা শুধু মাত্র মানব জাতিকে নিয়ে। বনের পশু সৃষ্টি কর্তার নিয়ম অনুযায়ী জীবনচক্র সচল রেখেছে বলে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ সবল বাচ্চা প্রসব করে, মানব জাতি প্রকৃতির নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী না চলে প্রজনন কার্যক্রমে পশুত্বকে হাড় মানিয়েছে তারা বহুগামিতা, সমকামিতা এমনকি পশুগামিতাকেও মানবাধিকার বলে মেনে নিচ্ছে, ১. ((https://goo.gl/zbjL9m) ) ২. (https://goo.gl/T9GYh6) ফলে ব্যাপক হাড়ে বিকলাংগ, প্রতিবন্ধি সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, প্রতিবন্ধি বা”্চাদের হার ভয়ংকর গতিতে বেড়ে চলছে।(https://goo.gl/sZFpmL)

এখানে আর একটি লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে, যে সব দেশে যত বেশী যৌন শিক্ষা সে সব দেশে তত বেশী ফ্রী সেক্স এবং ধর্ষণা অতীতে যখন স্কুল কলেজে যৌন শিক্ষা ছিল না তখনও প্রজনন কর্মকান্ডে মানুষ পিছিয়ে ছিল না। সুস্থ মানব সন্তান তৈরীতে উনারা পিছিয়ে ছিলেন না। বর্তমানে ১৮/২১ বৎসরের বিভ্রান্তি, ব্যাপক হারে যৌন শিক্ষা আর সহজলভ্য জন্ম নিরোধক এবং যৌন উত্তেজক সামগ্রী সবই হচ্ছে মানব জাতিকে মানবীয় শালিনতার গন্ডি পেড়িয়ে পশুত্বকে বরন করে নেয়ার সু² এবং দীর্ঘ মেয়াদী আয়োজন। এর জবাব দিতে শুরু করেছেন আমাদের সৃষ্টি কর্তা। পাশ্চাত্য জগতে শুরু হয়েছে ব্যপক হাড়ে খোদাই গজব।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী যখন একটি ছেলে সন্তানের অন্তরে বিপরীত লিংঙ্গের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় তখনই সে বালেগ/এডাল্ট, যখন কোন মেয়ে সন্তানের মাঝে একই ধরনের অনুভূতি জাগে তখন থেকেই সে বালেগা/এডাল্ট, এই উপলব্ধিগত অবস্থানের বাইরে কারো ধারনা থাকাটা হচ্ছে যে উক্ত ব্যক্তি নিজেকে শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মনে করে না। সে নিজেকে নিকৃষ্টতম প্রাণী শুকরের চেয়েও নি¤œ শ্রেনীর ধারনা করে, কারণ শুকর যৌন শিক্ষা ছাড়াই তাদের জীবন চক্র সচল রাখে অথচ ঐ ব্যক্তির ধারনা অনুযায়ী মানুষের যৌন শিক্ষা প্রয়োজন এবং ১৮/২১ বৎসর পর্যন্ত বিবাহ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। পরিশেষে যে বিষয়টি অবতারনা করা একানÍ গুরুত্বপুর্ন তা হচ্ছে, যে ব্যাক্তি বাল্য বিবাহকে অবৈধ ধারনা করবে সে আর যাই হোক মুসলমান হিসাবে নিজেকে দাবী করতে পারেনা। কারন বাল্যবিবাহ হচ্ছে খাছ সুন্নাত, বাল্যবিবাহকে ইহানত করার অর্থ হচ্ছে হুজুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বুঝে / না বুঝে ইহানত করা (নাউজুবিল্লাহ)। আর সেই ইহানতকারী জান্নাতে প্রবেশ করাতো অনেক দূরে, কস্মিনকালেও জান্নাতের পর্যন্ত পাবেনা।

সাবাস ইহুদীদের মগজ ধোলাইয়ের দক্ষতা আর আফসোস বর্তমান সময়ের তথাকথিত গন্ডমূর্খ মুসলমানদের জন্য।

 

image_printপ্রিন্ট

শেয়ার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।