দুই-তিনটি স্থান ঘিরে দেশে ৮০% পর্যটক আসে

বাংলাদেশে পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান কম নয়। অথচ ৭০-৮০ শতাংশ পর্যটকই আসছে মাত্র দুই-তিনটি স্থানকে ঘিরে।

এর মধ্যে পর্যটকদের ৪০ শতাংশ কক্সবাজারনির্ভর। মূলত পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ অবকাঠামোর অভাবে দেশের বেশির ভাগ পর্যটন স্পটই আকর্ষণ হারাচ্ছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ আয়োজিত গবেষণা ফলাফল বিস্তরণ কর্মশালায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মফিজুল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামীমা নার্গিস এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শামীমা সুলতানা। কর্মশালায় পর্যটনশিল্প নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা কমার্স কলেজের অধ্যাপক ড. এ এম শওকত ওসমান। কর্মশালায় মন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের চেয়েও এখন বড় বাজার পর্যটন ও প্রযুক্তি খাত। নেপালের মতো দেশে শিল্প তেমন গড়ে না উঠলেও শুধু পর্যটন দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকেও পর্যটন আকর্ষণে আরো উদ্যোগ নিতে হবে।

অবশ্য পর্যটন বিকাশে মানসিকতাও পরিবর্তন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, মানুষের হাতে টাকা হলে এক দেশ আরেক দেশে বেরিয়ে পড়ে, এটা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। শুধু এই পর্যটনশিল্পকে কাজে লাগিয়েই নেপাল অনেক বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। তাহলে বাংলাদেশ পারবে না কেন। দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে পর্যটনশিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পর্যটনের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আধুনিকায়নের জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। টেকনাফে পর্যটনের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। তবে দেশে প্রকৃত পর্যটকদের নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। কেননা যেসব বিদেশি এ দেশে ব্যবসা করতে আসে তাদের আমরা পর্যটক হিসেবে ধরি। এটা ঠিক নয়। তারা আসে তাদের ব্যবসা করতে, বেড়াতে নয়। এ জন্যই সঠিক পর্যটকের সংখ্যা পাওয়া যায় না। আমাদের ইমিগ্রেশনসহ অনেক খাতে পরিবর্তন করতে হবে। ’ অধ্যাপক ড. এ এম শওকত ওসমান তাঁর উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটন খাতের অবদান মাত্র ৫.৩ বিলিয়ন ডলার বা মাত্র ২.২ শতাংশ। অথচ থাইল্যান্ডের জিডিপির ৯.২ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৪.৬ শতাংশ, নেপালের ৩.৬ শতাংশ, ভারতের ৩.৩ শতাংশ মালয়েশিয়ার ৪.৭ শতাংশ আসছে পর্যটন খাত হতে। এই খাতে বিনিয়োগও অন্য দেশগুলোর চেয়ে অনেক কম। তা ছাড়া দেশে প্রচুর হোটেল হলেও পর্যটন সুবিধা এখনো সরকারি সেবানির্ভর। সরকারি হিসাবে বছরে চার লাখ পর্যটক দেশে এলেও তাদের বড় অংশ ব্যাবসায়িক বা ভিন্ন কারণে ভ্রমণে এ দেশে আসছে। পর্যটকদের ৪০ শতাংশ কক্সবাজারনির্ভর। মাত্র দুই-তিনটি স্থানে যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যটক। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটক আকর্ষণে সকারিভাবে চিহ্নিত সাড়ে ৭০০ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসহ অবকাঠামো গড়ে তোলার সুপরিশ করেন তিনি।

image_printপ্রিন্ট

শেয়ার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।