প্রথম স্যাটেলাইট মহাকাশে আবর্জনা পরিষ্কার করতে

মহাকাশের আবর্জনা পরিষ্কার করার সম্ভাব্য সমাধান হিসাবে প্রথম স্যাটেলাইট ছাড়া হল ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে। খুব তাড়াতাড়ি এই স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করবে। এপ্রিল মাসে ফ্লোরিডা থেকে একটি স্পেসএক্স ড্রাগন স্পেসক্রাফ্টে করে লঞ্চ করা হয়েছিল ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই স্যাটেলাইটটিকে।

‘RemoveDEBRIS mission’ নামের এই স্যাটেলাইটটি ব্রিটেনে তৈরি করা হয়েছিল। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা ভয়ঙ্কর স্পেস আবর্জনা পরিষ্কার করার এটাই গোটা বিশ্বে প্রথম প্রচেষ্টা। ১০০ কিলোগ্রামের এই স্পেসক্রাফ্টটি একটি জাল ও একটি হারপুন ব্যবহার করে ভাসতে থাকা স্পেস আবর্জনাকে ধরার চেষ্টা করবে। সেই সঙ্গে স্যাটেলাইটটি তার অত্যাধুনিক ক্যামেরা ও ব়্যাডার সিস্টেমেরও পরীক্ষা করবে।

একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেরাচ্ছে হাজার হাজার স্পেস আবর্জনা। যাদের মধ্যে বেশ কিছু আবর্জনা একটি গতিসম্পন্ন বুলেটের থেকেও বেশি গতিতে ঘুরে বেরাচ্ছে। যা মূল্যবান স্যাটেলাইট এমনকী, ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের জন্যও ক্ষতিকারক হয়ে উঠতে পারে।

পরীক্ষা নিরীক্ষার পর্যায় সম্পূর্ণ হয়ে গেলে স্যাটেলাইটটি একটি পাল খুলে দেবে। যা স্যাটেলাইট ও আবর্জনাগুলিকে কক্ষপথ থেকে বের হয়ে আসতে সাহায্য করবে এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময়ই পুড়ে যাবে। ইউনিভার্সিটি অফ সারের একজন অধ্যাপক গুগলেলমো অ্যাগলট্টিটি বলেন, ‘‘এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফল হলে ভবিষ্যতে ‘RemoveDEBRIS’-এর প্রযুক্তি অন্যান্য মিশনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যাবে। ’’

‘RemoveDEBRIS mission’ – নেতৃত্ব দিচ্ছে সারে বিশ্ববিদ্যালয়। স্যাটেলাইটটি তৈরি করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ছোট স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারক সারে স্যাটেলাইট টেকনোলজি লিমিটেড (এসএসটিএল)। যার প্রযুক্তি ডিজাইন করেছে এয়ারবাস।

image_printপ্রিন্ট

শেয়ার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।