ফুটবল প্রশিক্ষণ দেবে ব্রাজিল স্কুল শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেবে ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত জোয়াও তাবাজারা ডি ওলিভেইরা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দিতে রাজি হন।

বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সচিবসহ অন্যান্য অফিসাররা ব্রাজিল ভিজিট করে এসেছেন। সেখানে কিছু কথাবার্তা হয়েছে, সেটারই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন, তার সঙ্গে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ ছিল, তারা চীনে যেভাবে সোশ্যাল প্রোগ্রামের আওতায় প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করে স্কুল লেভেলে ফুটবলের ট্রনিং ও সহযোগিতা জন্য কাজ করছে, অনুরূপভাবে স্কুল ফুটবলকে এগিয়ে নিতে, আলটিমেটলি ফুটবলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। সেটা নিয়ে কথাবার্তা ইতোপূর্বে হয়েছে, আজকেও হলো।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তাদের আমাদের বিকেএসপি ভিজিট করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। ফুটবল যাতে আরও এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য তারা কোচ দিয়ে কোচদের ট্রেনিং দিয়ে সহযোগিতা করতে রাজি হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা পরবর্তীকালে আরও বসব। সেটাই সিদ্ধান্ত হল। তারা নীতিগতভাবে আমাদের সহযোগিতা দিতে রাজি হয়েছে। তবে বিস্তারিতভাবে কোনো কিছু এখনও হয়নি।’

এই কাজটি শুরু করতে পারলে আমাদের ফুটবলের ব্যাপক উন্নতি হবে বলেও মনে করেন বীরেন শিকদার।

অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে উঠে আসবে ৬৬ ফুটবলার :

প্রাইমারি লেভেলে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমাদের অনূর্ধ্ব ১২ ছেলেমেয়েদের অনেক উন্নতি হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে একটা ডিজরাপশন হয়ে যায় যে, ১২ বছরের পর আর এই কন্টিনিউয়েশন (ধারাবাহিকতা) থাকে না। আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটা উদ্যোগ নিয়েছি, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য একটা ফুটবল টুর্নামেন্ট আমরা চালু করছি।’

এই টুর্নামেন্টটি হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের নামে জানিয়ে বীরেন শিকদার বলেন, ‘সেটা ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা আলাদা হবে। আমরা এ বছর শুধু ছেলেদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করতে যাচ্ছি।’

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যে টুর্নামেন্টটি শেষ হবে। শুধু স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, ক্লাবের অনুর্ধ্ব-১৭ খেলোয়াড়রাও এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারবেন বলেও জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে প্রাথমিকভাবে এক লাখ ২২ হাজার খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবে। জাতীয় পর্যায়ে সেরা ৬৬ জনকে আমরা কন্টিনিউয়াস ট্রেনিংয়ের মধ্যে রাখব, যাতে এরা হারিয়ে না যায়। তাদের ন্যাশনাল লেভেলে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আমরা পালন করব।’

বীরনে শিকদার আরও বলেন, ‘চার বছরের (২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬) জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার দিতে ক্রীড়াবিদদের তালিকা চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হবে। আগে কয়েক টার্মে এই পুরস্কারটা দেয়া হয়নি, এজন্য জট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করব জটটা নিরসন করে আমাদের সময়ের মধ্যে আমরা এটাকে আপডেট অবস্থায় রেখে যেতে চাই।’

image_printপ্রিন্ট

শেয়ার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।