আইসিসিতে পর্যবেক্ষণ রোহিঙ্গা বিতাড়নের তদন্ত নিয়ে

মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়নের বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ার দাবি করে নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার গোষ্ঠী, শিক্ষক ও আইনজীবী সমাজের ২৬ জন বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) একটি পর্যবেক্ষণ পেশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের পক্ষে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের (সিপিজে) নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার মনজুর হাসান ও সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান আইসিসির এ বিষয়ক অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে গত ১৮ জুন ৪০ পৃষ্ঠার বিবরণসহ পর্যবেক্ষণ জমা দেন।

প্রতিবেদনে ৩টি বিষয়ের ওপর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে পালিয়ে আসার প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বিতাড়ন, তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট আইন বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বর্ণনা। প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়, এসব বিষয় আমলে নিয়ে আইসিসি তদন্তের এখতিয়ারের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেবে।

বাংলাদেশের বেসরকারি নাগরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন আইনজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. আসিফ নজরুল ও ড. রিদওয়ানুল হক, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, নারী ও আদিবাসী অধিকারকর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউর রহমান লেনিন, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিনথিয়া ফরিদ, আলোকচিত্রী মাহমুদ রহমান, মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকর্মী আসিফ মুনীর, অধ্যাপক ড. নায়লা জামান খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) মাহরুখ মহিউদ্দিন, অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী ডা. মন্জুর কাদির আহমেদ, কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, নারী অধিকারকর্মী মাহিন সুলতান এবং জেনেভা একাডেমি অব ইন্টারন্যাশনাল হিউমেনিটারিয়ান ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের শিক্ষার্থী কাজী ওমর ফয়সল।

পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দীর বরাত দিয়ে সর্বশেষ গত বছরের ২৫ আগস্ট সংঘটিত রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ, হত্যা, নারী ধর্ষণ, নৃশংসতা, অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশ থেকে বিতাড়নের বিবরণ তুলে ধরা হয়।

image_printপ্রিন্ট

শেয়ার

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।