২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮      

English Varsion

সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা হচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রু. ১৩, ২০১৮ ১১:৪১

গত তিন বছর থেকে প্রতিবছর নিয়মিত পাঁচ কোটি টাকা বা তার বেশি রাজস্ব পরিশোধ করছে, এমন সব প্রতিষ্ঠানকে ‘সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে চিহ্নিত করে হালনাগাদ তালিকা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তালিকা চূড়ান্তের পর এসব প্রতিষ্ঠানকে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) অন্তর্ভুক্তিতে প্রস্তাব জানিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতে এনবিআর থেকে চিঠি পাঠানো হবে। অন্যদিকে পাঁচ কোটি টাকা বা তার বেশি রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এত দিন এনবিআরের তালিকায় থাকলেও গত তিন বছরের প্রতিবছর পাঁচ কোটি টাকার কম রাজস্ব পরিশোধ করেছে, এমন ৩২ প্রতিষ্ঠানকে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি বকেয়া আছে, এমন সব প্রতিষ্ঠানকে ১৫ বারের বেশি তাগাদা দেওয়ার পরও গত তিন বছরে বকেয়া পরিশোধ করেনি, এমন সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ১৬৬ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাজস্ব আদায়ে ২০০৪ সালে এলটিইউ-ভ্যাট শাখা গঠন করা হয়। বর্তমানে এলটিইউর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭০। এর মধ্যে ১০০ কোটি থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ভ্যাট দিয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আবুল খায়ের টোব্যাকো কম্পানি দুই হাজার ২৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ৪২১ কোটি তিন লাখ, পদ্মা অয়েল কম্পানি ২৪৪ কোটি ৯১ লাখ, যমুনা অয়েল কম্পানি ৩১৮ কোটি ছয় লাখ, ইস্টার্ন রিফাইনারি ৩০০ কোটি, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ১৪১ কোটি ৬৩ লাখ, শ্রী কাইল গ্যাসফিল্ড ১৩০ কোটি আট লাখ টাকা ভ্যাট প্রদান করে।

৫০ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট দিয়েছে ১৫ প্রতিষ্ঠান—স্কয়ার ফর্মুলেশন ৯৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, রশিদপুর কনডেনসেট ফ্রাংকশনেশন প্লান্ট ৮৯ কোটি টাকা, স্টার সিরামিক লিমিটেড ৮৬ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড ৮০ কোটি টাকা, প্রাণ ডেইরি লিমিটেড ৫৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

৪০ থেকে ৪৯ কোটি টাকা ভ্যাট দিয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ৪৯ কোটি আট লাখ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৪৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা, এশিয়ান পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা, স্টান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল লিমিটেড ৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এনবিআরের এলটিইউর বাইরে অন্যান্য ভ্যাট কমিশনারেটের আওতায় থাকা ২২৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সক্ষমতা কম রয়েছে তাদের আরো সক্ষম হতে সময় দেওয়া হবে। বছরে নিয়মিত পাঁচ কোটি টাকা বা তার বেশি রাজস্ব পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানকে এনবিআর থেকে বন্দরে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে বর্তমানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলমান ‘অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর-এইও’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এতে নিয়মিত সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বন্দর থেকে দ্রুত ও অপেক্ষাকৃত কম পরীক্ষায় পণ্য খালাসের সুবিধা, ব্যাংক গ্যারান্টির বাধ্যবাধকতায় নমনীয়তা এবং বাকিতে কার্যক্রম সম্পন্ন করার মতো সুবিধা পাবে।  ফলে আমদানি-রপ্তানিতে পণ্য খালাসে কম সময় লাগবে। এতে ব্যবসায় ব্যয় কম হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সাল থেকে এইও পুরোপুরি চালু হবে। এ ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের দেওয়া হিসাবের সঙ্গে এনবিআরের হিসাবের অমিল দেখা দিলে মামলায় না গিয়ে সমঝোতায় মাধ্যমে মীমাংসার সুযোগ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ৫০ লাখ টাকা বকেয়া আছে, এমন প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্র ভ্যাট গোয়েন্দা ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। এ দুই প্রতিষ্ঠানকে বকেয়া আদায়ে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে। এ দুই গোয়েন্দা শাখা থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব ফাঁকিবাজ মালিকদের তালিকা করে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলে (সিআইসি) পাঠানো হবে। তিন গোয়েন্দা শাখার সম্মিলিত কার্যক্রমে বকেয়া আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাজস্ব ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠান এইও সুবিধা পাবে না। বন্ড সুবিধা বাতিল করা হবে। বন্দরে পণ্য অধিকতর যাচাই-বাছাই করে ছাড় করা হবে। বিনা নোটিশে রাজস্ব ফাঁকিবাজ প্রতিষ্ঠানের কারখানায় উপস্থিত হয়ে হিসাবপত্র জব্দ করে খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে এনবিআর মামলা করবে।

image_printপ্রিন্ট