২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮      

English Varsion

‘জঙ্গি নন সরকারেও ছিলেন না তারেক রহমান ‘

অনলাইন ডেস্ক
জানু. ২৩, ২০১৮ ১৩:৩২

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি তারেক রহমানের পক্ষে গতকাল সোমবার যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়েছে। পলাতক আসামি হিসেবে তারেকের জন্য রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এই যুক্তিতর্ক শুনানি করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে আইনজীবী এ কে এম আখতার হোসেন বলেন, তারেক রহমান জঙ্গি নন। আর ওই ঘটনার সময় তিনি সরকারের কোনো দায়িত্বশীল পদেও ছিলেন না। সে ক্ষেত্রে হামলাকারীদের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ভিত্তিহীন।

তারেকের উপস্থিতিতে হাওয়া ভবনে বসে ওই গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল-রাষ্ট্রপক্ষের এই দাবি খণ্ডন করে বিএনপি নেতার পক্ষে আইনজীবী এ কথা বলেন।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হয়। আহত হয় পাঁচ শতাধিক মানুষ।

পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কারা অধিদপ্তরের মাঝে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিশেষ এজলাসে বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিনের ট্রাইব্যুনালে ওই ঘটনার দুই মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

গতকাল তারেক রহমানের পক্ষে শুনানি শেষ না হওয়ায় আজ মঙ্গলবার আবার যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন আইনজীবী আখতার হোসেন।

যুক্তিতর্কে তারেক রহমানের আইনজীবী বলেন, মামলার এজাহার, প্রথম অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এবং গ্রেনেড হামলা নিয়ে থানায় হওয়া বিভিন্ন সাধারণ ডায়েরিতে তারেকের নাম ছিল না। কিন্তু সম্পূরক অভিযোগপত্রে তারেককে এই মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়, ২১ আগস্ট হামলাকারীদের ঘটনা বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারেক।

আইনজীবী যুক্তিতর্কে দাবি করেন, ওই সময় তারেক রহমান বিএনপি এবং চারদলীয় জোট সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছিলেন না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় তারেককে জড়ানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে তারেকের পক্ষে আইনজীবীর যুক্তিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ষড়যনে্ত্রর সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষ তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারেক রহমান তাঁর তৎকালীন কার্যালয় বনানীর হাওয়া ভবনে ষড়যন্ত্র বৈঠক করেছেন, তাও প্রমাণিত হয়েছে। ওই বৈঠকের আলোকে হামলাকারীদের সার্বিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ মামলায় কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়নি। অপরাধে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই ঘটনায় জড়িতরা মামলার আসামি হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে গতকাল যুক্তিতর্ক পেশ করার ৩৪তম দিনে আসামি আবদুল হান্নান ওরফে মাওলানা সাব্বিরের পক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন তাঁর আইনজীবী মাঈনুদ্দিন মিয়া। এ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তাঁর খালাস চান আইনজীবী।

এ নিয়ে পলাতক আসামি ও কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে ১৪ জনের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে।

আর গত ১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেন।

image_printপ্রিন্ট